Posts

Showing posts from 2023

লেবুর গন্ধে ভর্তি জীবন..

“সত্যনারায়ণ মিষ্টান্ন ভান্ডারের পাশ দিয়ে সোজা ঢুকে যাবি। লাল বাড়ি-সাদা বর্ডার এর পর মাখন রঙের বাড়িতে লাল বর্ডার,  তারপরে আরেকটা ঘিয়ে রঙের বাড়িতে, সবুজ দরজা জানালা। সেটা পেরিয়ে ডানগলিতে ঢুকবি, ঢুকেই দেখবি পোকামামার মুদি দোকান। দোকানের সামনে তিনটে বেড়াল বসে আছে দেখবি। ওই দোকানে পুলু তাতাইয়ের বাড়ি জিগেস করলেই দেখিয়ে দেবে।” বাস স্টপে নেমে ওদের বাড়ি কিভাবে যাবো, জানাতে গিয়ে শ্রমণা ডেস্কের ওপর চক দিয়ে রাস্তা আর দোকান বাড়ি আঁকছিলো, পোকামামা আর বেড়ালও। ওর স্বভাব ছিল এঁকে এঁকে সব কথা বলা.. পথনির্দেশ তো তাও ঠিক আছে, যথেষ্ট দরকারি। কিন্তু সিনেমার গল্প, খেলার নিয়ম, সবই ও ছবি এঁকে বোঝাতো। জীবনের প্রথমবার বন্ধুদের সাথে, বাবা-মা বাদ দিয়ে পুজোর প্যান্ডেল ভ্রমণের প্ল্যান করছিলাম আমরা। বাবা পৌঁছে দিয়েছিলো, ওর বাড়ি। বাকিদেরও একই গল্প। তারপর আমরা শুধু কয়েকজন বন্ধু মিলে বড় হবার স্বাদ নিয়ে বেরিয়েছিলাম। সেটা অন্য গল্প। কিন্তু ব্যাপারটা হলো, সেই সত্যনারায়ণ মিষ্টান্ন ভান্ডার, সেদিন, এবং তার পরে অনেক অনেক দিন আমাদের পথনির্দেশ জুগিয়েছে। অটোতে করে যেতে যেতে সত্যনারায়ণ দেখলে থামতে বলতাম, বাসে যেতে যেতে ওই দোকা...

রায়গড়

Image
  ছোটবেলা থেকেই শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের সদাশিবের গল্প পড়ে পড়ে শিবাজী সম্পর্কে আমার দারুণ আগ্রহ ছিল.. বীর শিবাজী, বুদ্ধিমান শিবাজী, ছত্রপতি শিবাজী। ঘটনাচক্রে চাকরি সূত্রে গিয়ে পড়লাম পুণে। খাসা জায়গা, চমৎকার জীবন। সত্যি বলতে জীবনের সেরা সময়গুলোর মধ্যে একটা কাটিয়েছি পুণের ফ্ল্যাটে। বন্ধুবান্ধব, অবাধ স্বাধীনতা, কম হোক-বেশি হোক-নিজের উপার্জন। পায়ের তলায় মাটি আর মাথার ওপরে খোলা আকাশ। পুণের আশেপাশে, মহারাষ্ট্রের অগুন্তি দ্রষ্টব্য স্থানগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ দেখা হয়ে গেছিলো আমাদের। একটা বেড়িয়ে আসা শেষ না হতেই, পরেরটা প্ল্যান করে ফেলতাম আমরা। টুক করে একবার রায়গড় যাওয়া হলো.. প্ল্যান সেরকম কিছু করা হয়নি, হঠাৎই ঠিক হয়েছিল। স’ এর মা, কাকিমা, আমরা চারমূর্তি আর উদু। সহ্যাদ্রির বর্ষা, যাকে বলে মনোরম। চারদিকের রুক্ষ, শুকনো, বাদামি জমির ওপর ঝলমলে সবুজের ভেলভেট আস্তরণ। সেই সবুজের আবার নানা শেড.. 'মেরাওয়ালা গ্রীন'। একটু ওপরে উঠলেই মেঘের মধ্যে ঢুকে পড়া.. আর পাহাড়ের প্রত্যেকটা খাঁজে একটা করে মরশুমি ঝর্ণা। তো সেইসব মনোরম রাস্তা দেখতে দেখতে হুল্লোড় করতে করতে গিয়ে পৌঁছলাম একটা পাহাড়ের মাথায়। গাড়ির রাস্তা...

কালীয় দমনের গান

Image
ইউটিউবে ঘুরতে ঘুরতে একদিন তিল্লানার সাথে দেখা হলো... নামটা নতুন, ভাবলাম শুনে দেখি।  প্রথমটা ভেবেছিলাম তারানারই মতো, তালের সাথে সুর মিলিয়ে এগোচ্ছে। তারপর গান যত এগোলো, অরুণা সাইরাম যত সুর, তাল, শব্দ, ভাব, ঘুড়ির সুতোর মতো ছাড়তে শুরু করলেন, বুঝলাম আমার লিমিটেড জ্ঞানের মধ্যে এ জিনিসের সাথে তুলনীয় কিছুর সাথে আগে আমার পরিচয় হয়নি। উৎসব: সৌমিক দত্তের সাথে এখানে একই গানের আরেকটু এদিক ওদিক রূপ রয়েছে। কোনটা বেশি ভালো লাগছে, বুঝতে পারছিলাম না.. একবার এটা, একবার ঐটা।  তবে কোনো পুরোনো মন্দিরের পাথুরে মেঝের ওপর বসে এই গান শোনা, আর সাজানো অডিটোরিয়ামের নরম চেয়ারে বসে এই গান শোনার অনুভূতির মধ্যে কোনটা যে নিক্তির বিচারে জিতে যাবে, সেটাতো বলাই বাহুল্য।

জন্মসূত্রে পাওয়া

একদিন ভাবতে বসেছিলাম জন্মসূত্রে কি কি পেয়েছি। কেন ভাবতে গেছিলাম, তার শুরু খুঁজতে গেলে প্রচুর ব্যাখ্যান পাড়তে হবে। তো সে কথা থাক। মুখ চোখ নাকের গড়ন, গায়ের রং, কালো সরু সোজা চুল। ডায়াবেটিসের আভাস - আশংকা, উচ্চতায় খামতি।  পরিচয় পেয়েছি একগাদা। পদবি, গোত্র, জাতি-ধর্ম থেকে শুরু করে দেশ, রাজ্য, জেলা, পাড়া অবধি খুঁজে ফেলতে পারা উৎস.. বাবার থেকে ভালো গুলো অল্প কিছু কিছু পেয়ে থাকলেও, ধৈর্য পাইনি একটুও। খুঁজতে গিয়ে, ভাবতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে গেছি। কত কত কিছু, কত ধরণের পাওয়া। কিছু না করেই, কিছু না ভেবেই পেয়ে গেছি এগুলো। যদি এগুলো না পেয়ে অন্য কিছু পেতাম? আমার ভাবনা চিন্তা, বড় হয়ে ওঠা সব অন্যরকম হতো.. ভালো কি মন্দ জানিনা। কোনটা অন্য রকম পেলেও আমি খুব অখুশি হতাম না? আবার কোনটা অন্যরকম হলে চলতো  না ? কোনটা অন্যরকম হলে বেশ ভালো হতো? এসব ভাবতে গিয়ে আরোই ঘেঁটে-ঘ হয়ে যাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম, আমার হাতে প্রচুর সময়, কাজ কম। তাই টিভি খুলে বসলাম। নেটফ্লিক্স এবং চিল.. তবে একটু একটু করে ভাবতে ভাবতে একটা ব্যাপার সম্পর্কে আমি নিশ্চিত হয়েছি। জন্মসূত্রে পাওয়া একটা পরিচয়ের জন্যই সত্যি সত্যি গর...