লেবুর গন্ধে ভর্তি জীবন..
“সত্যনারায়ণ মিষ্টান্ন ভান্ডারের পাশ দিয়ে সোজা ঢুকে যাবি। লাল বাড়ি-সাদা বর্ডার এর পর মাখন রঙের বাড়িতে লাল বর্ডার, তারপরে আরেকটা ঘিয়ে রঙের বাড়িতে, সবুজ দরজা জানালা। সেটা পেরিয়ে ডানগলিতে ঢুকবি, ঢুকেই দেখবি পোকামামার মুদি দোকান। দোকানের সামনে তিনটে বেড়াল বসে আছে দেখবি। ওই দোকানে পুলু তাতাইয়ের বাড়ি জিগেস করলেই দেখিয়ে দেবে।” বাস স্টপে নেমে ওদের বাড়ি কিভাবে যাবো, জানাতে গিয়ে শ্রমণা ডেস্কের ওপর চক দিয়ে রাস্তা আর দোকান বাড়ি আঁকছিলো, পোকামামা আর বেড়ালও। ওর স্বভাব ছিল এঁকে এঁকে সব কথা বলা.. পথনির্দেশ তো তাও ঠিক আছে, যথেষ্ট দরকারি। কিন্তু সিনেমার গল্প, খেলার নিয়ম, সবই ও ছবি এঁকে বোঝাতো। জীবনের প্রথমবার বন্ধুদের সাথে, বাবা-মা বাদ দিয়ে পুজোর প্যান্ডেল ভ্রমণের প্ল্যান করছিলাম আমরা। বাবা পৌঁছে দিয়েছিলো, ওর বাড়ি। বাকিদেরও একই গল্প। তারপর আমরা শুধু কয়েকজন বন্ধু মিলে বড় হবার স্বাদ নিয়ে বেরিয়েছিলাম। সেটা অন্য গল্প। কিন্তু ব্যাপারটা হলো, সেই সত্যনারায়ণ মিষ্টান্ন ভান্ডার, সেদিন, এবং তার পরে অনেক অনেক দিন আমাদের পথনির্দেশ জুগিয়েছে। অটোতে করে যেতে যেতে সত্যনারায়ণ দেখলে থামতে বলতাম, বাসে যেতে যেতে ওই দোকা...