Posts

সমান্তরাল

অটোতে বসে ঘড়ি দেখে নেয় কল্পনা। সাড়ে তিনটে বাজে, বাড়ি ঢুকতে চারটে হবে। বুড্ঢাটার বাড়ি ঢুকতে এখনো অনেক দেরি। কিন্তু পাঁচটার দিকে রুমিদি, লিপিদিদের আসার কথা আছে.. সময় আছে এখনো।  হাতের প্লাস্টিকে মধু, বালিশের ওয়ার, হ্যাঙ্গার, এরম হাবি জাবি কয়েকটা জিনিস কেনা আছে। দরকারি জিনিসের মধ্যে ফ্রোজেন ফিশ ফিঙ্গার। আজ চায়ের সাথে ভেজে দেবে ওদের।  বাইরে গেছিল, তার একটা ন্যায্য কারণ থাকাটাও প্রয়োজন।  অটোটা লোক তোলার জন্য দাঁড়িয়ে আছে তো আছেই।  বাঁ হাতের রুমালটা দিয়ে গলার আর কপালের ঘাম মোছে কল্পনা, যা প্যাচপ্যাচে গরম কলকাতায়। সকাল থেকে মেঘলা গুমোট করে রয়েছে। রোদ নেই, কিন্তু এই গুমোটের জন্য সেদ্ধ হচ্ছে মানুষ।  বাড়ি গিয়ে আগে গা ধুতে হবে। শাড়ীটাও জলকাচা করে দেবে একসাথে। বড্ড ঘাম লেগে গেছে, ছোপ পড়ে যেতে পারে। জর্জেটের শাড়ী পরে বেরিয়েছে আজকে। গরমে নাকি জর্জেট ভাল। যত্ত বাজে কথা.. এগুলোতে গরম লাগে খুব, ঘাম টানেনা একদম। কিন্তু ভাঁজে ভাঁজ পড়ে কুঁচকে যায়না.. খোলা পরা করতে অসুবিধা হয়না। তাই এই দিন গুলোতে এইসব শাড়ীই পরে কল্পনা।  আগে আগে সিনেমা হলে যেতো ওরা, হাওড়ার একটা মলে। ক...

কনকাম্বরম

কদিন আগে দুই বন্ধু হাম্পির কথা মনে করালো। বছর দশেক আগে সৌম্যর জন্য একটা ফরমায়েশি গল্প লিখেছিলাম। গল্পটা মনে থাকলেও, লেখাটা খুঁজে পাচ্ছিলামনা। অগত্যা আবার লিখতে হলো। অনেকদিন কিছু পোস্ট করা হয়না। তাই গল্পটায় অতি চেনা ছক, অতিবর্ণন, এইসব সমস্যা থাকা সত্ত্বেও, ছেপেই দিলাম। *** ছোট ছোট ঢেউয়ের তালে দুপুরের সূর্য কুচি কুচি হয়ে জ্বলছে। একটানা তাকিয়ে থাকা যায়না, ঝিলমিল লেগে যায়। কালো গ্রানাইটের থামে হেলান দিয়ে বসে আছে সৌম্য। থামের ঠান্ডা পাথর থেকে আরাম ছড়িয়ে পড়ছে ওর পিঠে। বাইরের রোদের এলোমেলো গরম হাওয়া বোধহয় জলের ওপর দিয়ে বয়ে আসতে আসতে ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। ঘাম শুকিয়ে যাচ্ছে, শরীর জুড়িয়ে যাচ্ছে, মন শান্ত হয়ে যাচ্ছে। পুরন্দরদাসের মন্টপের চারপাশে স্থবির দুপুরটা আরামে ঝিমোচ্ছে। বিটঠল মন্দিরের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে কাল এই জায়গাটা খুঁজে পেয়েছে সৌম্য। রাস্তার সামনে এ এস আই এর নীল বোর্ড পেরিয়ে চৌকো পাথরের চাতাল, তার পেছনে একটা হলঘর, অনেকটা নাটমঞ্চের মতো। পেছনে তিরতির করে বয়ে চলেছে তুঙ্গভদ্রা। তারই ধারে দালানের একটা থামে হেলান দিয়ে আজ জিরোচ্ছিলো ও।  হাম্পি এসে থেকে সৌম্যর মনটা রোমান্সে ছেয়ে গেছে। শরদিন্দুর...