Posts

Showing posts from 2017

সত্যদার দোকান

বয়েস সাড়ে চার, ফ্রকের হাফহাতা থেকে বেরিয়ে ছোট্ট হাত. .মুঠিতে ধরা দুটাকার নোট। পাড়ার ভেতরের বড়ো রাস্তায় সাইকেল বেশি চলে, মাঝে মাঝে স্কুটার। তাও ভালো করে এদিক ওদিক দুবার করে দেখে দেখে রাস্তা পার হয় ফ্রক,  সেরকমই নির্দেশ ছিল.. ভীষণ বাধ্য ।   উল্টোদিকে সত্যদার দোকান। বয়েসে হয়ত সত্যজেঠু হবেন, তবু বাবা মা যা বলে, সত্যদা তাই। দাদা..!! চিনির ঠোঙা শক্ত করে ধরে গুটি গুটি বাড়ি ফেরে মেয়েটা। তার ছোট্ট জীবনের সবচেয়ে বড়ো অ্যাচিভমেন্ট। সত্যদার দোকান থেকে চিনি কিনে আনা.. মধ্যবিত্ত পাড়ার সবচেয়ে চালু দোকান, ওপরে শাটারের মাথায় টিনের ঢাকনায় হলুদের ওপর লাল রঙে কিছু একটা নাম লেখা ছিল। অক্ষরগুলো অকালে ঝরে যাওয়ায়,টিনের ওপরে শুধু আলগা লাল রঙের টুকরো লেগে থাকতো। আর জেগে থাকতো নিচের ট্যাগলাইন, জানিনা, হয়তো ওই রংটা বেশি পোক্ত ছিল বলে - "বিবিধ গ্রোসারি এবং স্টেশনারি দ্রব্য পাওয়া যায়"।  দোকানের নাম কেউ জানতোনা আর তার প্রয়োজনও ছিলোনা। সেযুগে সব দোকানের নামই 'লাল্টুর', 'হরিপদর' 'সত্যদার' হতো। রিক্সায়ালারাও ওই নামেই ভাড়া নিতেন। অতিথিরা সত্যদার দোকানের উল্টোদিকের বা পাশের বা পেছনের গল...

শিবঠাকুরের আপন শহর

Image
এও এক শহর। কয়েক হাজার বছর ঘুরে গেছে,শহর রয়ে গেছে। পুরোনো শহরের নতুন হাত পা জুড়েছে, তবু পুরোনো শহর এখনো একই রকম .. গলির শরীর জুড়ে বাড়ির পর বাড়ি.. ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে থাকে। মানুষ দেখে, ষাঁড় দেখে, বাঁদর, পায়রা, গরু, কুকুর সব দেখে। কখনো জটলা জমলে, ঝগড়া বাঁধলে, মারামারি-হাতাহাতি লাগলে হয়তো গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে..উত্তেজনা কেটে গেলে আবার হাই তুলে তুড়ি মারে। দুপুরের অলস রোদে ভাতঘুম দেয় বাড়িগুলো, নিচে গলির শিরায় প্রাণ বয়ে যায়। মানুষ, কুকুর, গরু, ষাঁড়.. সাইকেল, ভ্যান রিকশা, বাইক, স্কুটার.. ট্যুরিস্ট, হিপি, সাত্বিক, ঝাঁকাওয়ালা, সাধু, দালাল, পুণ্যার্থী, ভক্ত, পকেটমার, অফিসবাবু, দোকানদার, চোর, পাগল, বদমাশ, ঝাড়ুদার, পুলিশ  .. আর্টিস্ট কালার রঙের বাক্সের সব কটা রং.. ফুলের, ধূপের, দুধ-মালাইয়ের, পান মশলার, মিষ্টির, ধোঁয়ার, কর্পূরের, নতুন কাপড়ের, গোবরের গন্ধ.. এই সব কিছু একসাথে মিলিয়ে মিশিয়ে জ্যাকসন পোলোকের ছবির মতো ভাবতে পারলে হয়তো গলি গুলোকে আঁকা যাবে। গলির চেহারা গলিদের আড্ডাখানা আশেপাশে, সামনে পেছনে, ডাইনে বাঁয়ে.. যেদিকেই যাও, গলায় গলায় গলাগলি করে গলিদের বিরাট একান্নবর্...

দূরভাষ

রিসিভারটা তোলার সময় শেষবার ভাবলো ঋতবান, এক সেকেন্ড, আর তারপর শেষ দ্বিধাটুকু ঝেড়ে ফেলে ডায়াল করলো নম্বরটা.. বাজছে.. কে ধরবে?.. অচেনা কোনো গলা.. ? নাকি চেনা গলা টাই...!! কোন গলাটা চাইছে ও? চেনাটা? মাঝেমাঝে মনে হচ্ছে, অচেনা গলা হলেই ভালো হয়.. আচ্ছা, গলাটা চিনতে পারা যাবে? যদি ভারী হয়ে গিয়ে থাকে? অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেছে মাঝখানে .. টেনশন বাড়ছিল.. যেন প্রশ্নপত্র হাতে পাবে, সাজেশন মিলেছে না মেলেনি তার পরীক্ষা.. অনেক ভেবেছে, নিজেকে আটকাতে পারেনি। বহুবার ভেবেছে, বহুদিন.. মাসের পর মাস কেটেছে, বছর ঘুরে গেছে। তবু মনস্থির করতে পারেনি। বারবার ফোন হাতে তুলেও রেখে দিয়েছে, ইমেইল টাইপ করেও মুছে দিয়েছে। অনেক দূরে থাকে সে, অনেক দূরের মানুষ। অন্য শহর, অন্য জীবন ।  কি দরকার এসবের? কখনো নিজেকে শাসন করেছে, কখনো নিজের মনকে ঠাট্টা করেছে, কখনো নিজেকেই ভয় পেয়েছে। বারবার স্ত্রীর কথা মনে পড়েছে, আর অবধারিতভাবে পুপুর। নিজেই নিজেকে বুঝিয়েছে, এটা ওদেরকে ঠকানো নয়। সেতো পুরোপুরি তার সংসারের। ঋতবান জানে এর মধ্যে কোনো পাপ নেই, নিজের মন সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই তার.. তবু অকারণ কেন যেন একটা...